নিত্যানন্দ স্মরণে

বিপুল-পুরট-ধামা কঞ্জদৃকপাদপাণিঃ
শুভদসুখদনামা কর্ণহৃদ্ধারিবাণিঃ
জলধরমদমোষে ডম্বর দিব্যবেশ
কুমল-হৃদয়কোষে ভাতু মে জাহ্নবেশঃ।।

পদ্মের মতো হস্তপদ, বিশাল কলেবর, পুণ্যনাম, “কানের ভিতর দিয়া মরমে পশিয়া” হৃদয়কে ধন্য করে দেয় এমন বাণী, বর্ষার মেঘের মতো বা রুদ্রের ডম্বরুর মতো গম্ভীর হুঙ্কার, লীলাবশে ধরেছেন দিব্যবেশ। জাহ্নবা দেবীর সেই হৃদয়বল্লভ মলিন হৃদয়কোষে প্রকাশিত হোন।

মঙ্গলাচরণের এই শ্লোকটি পেয়েছি হরিদাস দাস মহাশয়ের গৌড়ীয় বৈষ্ণব অভিধান থেকে।

আজ বাঙালির প্রেমের হাটের রাজা নিত্যানন্দ মহাপ্রভুর আবির্ভাব তিথি। তিনি অবধূতশ্রেষ্ঠ; তন্ত্রের মহাসাধক। মস্তকে ধারণ করেছেন ত্রিপুরাসুন্দরীর তত্ত্ব। তাঁর হরিনামের হুঙ্কারে কম্পিত হয়েছে মধ্যযুগের অত্যাচারী শাসক আর পথভ্রষ্ট সমাজপতিদের কুচক্র। তিনি পরম মমতায় সমাজে স্থান দিয়েছেন পাল-সেনযুগের তন্ত্রধারার উত্তরাধিকারী বাউল, সহজিয়াদের। জগাই মাধাইয়ের কলসির কানার আঘাতকে হেলায় অগ্রাহ্য করে হয়ে উঠেছেন সেই মহাকরুণার অবতার; যে মহাকরুণার পথেই একদিন বাঙালি সিদ্ধাচার্য তারা, লোকনাথ, প্রজ্ঞাপারমিতার সাধনা করেছিল।
তিনি চৈতন্যদেবের অভিন্নহৃদয় সহচর। তিনি গৌড়ীয় বৈষ্ণব ধর্মের কর্ণধার। তাঁর তত্ত্ব বোঝা বড়ো দায়। শ্রীবাস অঙ্গনের রুদ্ধদ্বার কীর্তনকে তিনিই নবদ্বীপের পথে নিয়ে এসেছিলেন। গৃহী সাধকের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সন্ন্যাসের পথ ত্যাগ করে বসুধা ও জাহ্নবা দেবীর সাথে বিবাহ করেছিলেন। গৌড়ীয় বৈষ্ণব ধর্মে নারীদের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠায় তিনি অগ্রণী। চৈতন্যজীবনী কাব্যসমূহের গ্রন্থনায় সূত্রধর রূপে তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য।
তাঁর ধর্ম কঠোরতায় মলিন নয়; আনন্দের সমস্ত বর্ণে বর্ণময়। বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে তাঁর প্রধান সহচর দ্বাদশ গোপালের মাধ্যমে মধ্যযুগের বিধ্বস্ত বাঙালির কাছে তিনি সার্বভৌম রাজার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। বাঙালি মহাজাতির পুনরুত্থানে তাঁর ভূমিকা সহস্র মুখেও বলে শেষ করা যায় না। তিনি ছিলেন বলেই আঘাতে আঘাতে দীর্ণ বাঙালি অত্যাচারী শাসককে বলতে পেরেছিল: ঝাট কৃষ্ণ বোল নইলে ছিণ্ড এই মাথা। খড়দহের শ্রীপাটে তিনি শারদীয়া কাত্যায়নী দুর্গার পূজা প্রচলন করেছিলেন। বুঝিয়েছিলেন বাঙালির শাক্ত আর বাঙালির বৈষ্ণব দুই ধারাই তন্ত্রের সূত্রে বাঁধা। পানিহাটির মহোৎসবে ছত্রিশ জাতির সমন্বয় ঘটিয়ে বাঙালির আদি সমাজভাবনার পুনরুদ্ধার করেছিলেন।
তাঁর নাম নিতে উদ্ধারণ দত্ত, রঘুনন্দনের মতো বিত্তবান থেকে বৃন্দাবনদাস, কৃষ্ণদাস কবিরাজের মতো নিষ্ঠাবান বৈষ্ণব সাধক, শাক্ত, বাউল, ফকির, সহজিয়া সবাই একাকার হয়ে যান। আজও সহজিয়া বাউল পদ ধরেন:
হরিনাম দিয়ে জগত মাতালে আমার একলা নিতাই

রক্তিম মুখার্জ্জী

বজ্রশারদার তত্ত্ব নিরূপণ

বজ্রসারদা। পালযুগের বাঙালির আরাধ্যা সরস্বতীর বজ্রযানী রূপ। হৃদয়ের বিশ্বপদ্মে চন্দ্রমণ্ডলের আভার মধ্যে তাঁকে ধ্যান করতেন সেযুগের মনস্বী সাধক। দেখতেন দেবীর প্রতিটি রোমকূপ থেকে প্রজ্ঞারশ্মির অমল প্রভার বিচ্ছুরণ। তিনি মহাবুদ্ধিবীজাঙ্কুরশ্রী অর্থাত মেধার তথা মানবচেতনার মহত্তম স্তরের উৎসরূপে বন্দিত হয়েছেন সাধনমালা গ্রন্থে।

নিচের ছবিটি নালন্দা মহাবিহারে প্রাপ্ত পালযুগের বজ্রশারদার। চার বছর আগে তুলেছিলাম। বর্তমানে নালন্দায় পুরাতত্ত্ব বিভাগের মিউজিয়ামে আছে। নালন্দা শব্দের অর্থে পদ্মের ব্যঞ্জনা নিহিত আছে। একদা বাঙালির যে জ্ঞানপীঠ সমগ্র জগতকে আলো দিয়েছিল; প্রজ্ঞার দেবী যেখানে অগণিত জ্ঞানতপস্বীর চেতনায় ধরা দিয়েছিলেন; সেখানেই তাঁর এই বিগ্রহ পূজিত হতো সেই স্বর্ণযুগে। এখানে দেবী চার সহচর পরিবৃত হয়ে বসে আছেন; ঠিক আমাদের শারদীয়া দুর্গার সপরিবার মূর্তির মতো। সারদা ও শারদার তত্ত্বে বিশেষ ব্যবধান তন্ত্রে নেই। বানানের দিক থেকেও বজ্রসারদা বহু স্থানেই বজ্রশারদা রূপে উল্লিখিত। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল সাধনমালায় দেবীর এই সহচরদের উল্লেখ নেই। যে শিল্পী এই মাতৃপ্রতিমা নির্মাণ করেছিলেন তিনিই এই মণ্ডলের রচনা করেছেন। এবং এই মণ্ডল মাতৃসাধনার প্রাচীন ধারার এক ধ্রুব বৈশিষ্ট্যকেই প্রকাশ করেছে। সাঙ্খ্যের পঞ্চ তন্মাত্রা, মহাযানের পঞ্চ তথাগত, ভাগবতধর্মের পঞ্চ বৃষ্ণিবীরের উপাসনা, পাঞ্চরাত্র উপাসনা, বৈদিক সাহিত্যে পঞ্চজনের দ্বারা সরস্বতীর উপাসনা, চার সন্তানের মাঝে গঙ্গারিডির দশায়ুধা মাতৃকার উপাসনা সবই সেই আদি ধারাটিরই ভিন্ন ভিন্ন অভিব্যক্তি। আজও শ্রীপঞ্চমীতেই মহাশ্বেতার পূজা অনুষ্ঠিত হয়। তন্ত্রের আদিমাতৃকার প্রজ্ঞাময়ী বিগ্রহ সরস্বতীর সর্বময়তা বর্ণিত হয়েছে একটি অপূর্ব শ্লোকে:

“তারা ত্বং সুগতাগমে ভগবতী গৌরীতি শৈবাগমে।
বজ্রা কৌলিকশাসনে জিনমতে পদ্মাবতী বিশ্রুতা।।
গায়ত্রী শ্রুতশালিনাং প্রকৃতিরিত্যুক্তাসি সাংখ্যযানে।
মাতর্ভারতি কিং প্রভূতভণিতৈর্ব্যাপ্তং সমস্তং ত্বয়া।।”

সুগতাগমে তুমি মা তারা। শৈব আগমে তুমি মা ভগবতী গৌরী। কৌলিক শাসনে তুমি মা বজ্রা। জৈনমতে তুমি মা পদ্মাবতী। বৈদিকের কাছে তুমি গায়ত্রী, সাংখ্য দর্শনে তুমি প্রকৃতি। হে মা সরস্বতী, বেশি বলে আর কি হবে, সমস্তই তোমার দ্বারা ব্যাপ্ত।

তিনিই বেদে “অম্বিতমে নদীতমে দেবীতমে” বলে সম্বোধিতা। বাক রূপে; গৌরী রূপে ইনিই অক্ষর জুড়ে জুড়ে ছন্দ সৃষ্টি করেছেন।

গৌরীমির্মায় সলিলানি তক্ষতীর্
একপদী দ্বিপদী সা চতুস্পদী
অষ্টাপদী নবপদী বভূবুষী
সহস্রাক্ষরা পরমে ব্যোমন্।।

জল কেটে কেটে গৌরী নির্মাণ করলেন- একপদী দ্বিপদী চতুষ্পদী অষ্টাপদী নবপদী – পরমব্যোমে সহস্রাক্ষর হতে ইচ্ছা করে।

সেখানে তিনি গৌরী। তাঁর এই বর্ণাত্মিকা জলময়ী রূপের সূক্তটিকে সুকুমার সেন মহাশয় বলেছেন: “প্রহেলিকাময় এবং অত্যন্ত দুর্বোধ্য, প্রায়-আধুনিক কালের যোগীদের আর্য্যা- তর্জার মতো।”

অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সরস্বতীর তিন প্রাচীন রূপের সন্ধান পেয়েছেন- ইড়া ভারতী ও সরস্বতী। জলরূপা মাতৃকা ও বাক তথা বর্ণাত্মিকা মাতৃকার এই সংযুক্তির ধারা তাম্রাশ্মযুগ থেকে আজ পর্যন্ত বিদ্যমান। সর্পমাতৃকা জগতগৌরীও এই সূত্রেই হংসাসনা সরস্বতীর সাথে একাত্ম হয়ে আছেন। তিনিই নীলসরস্বতী তারা; উপমহাদেশের নীলবর্ণা কালরূপা মাতৃকার এক মধুর বিগ্রহ। অজ্ঞানতার বিষে মৃতপ্রায় চেতনাকে তিনিই সঞ্জীবিত করেন।

সরস্বতী উপমহাদেশে স্মরণাতীত কাল থেকে পূজিতা। তাঁর নামটি পর্যন্ত সেই আদিকাল থেকে এখনও অবিকৃত। গৌড় সারস্বতগণ ( পরবর্তী সময়ের সাতশতী) সুদীর্ঘকাল তাঁর উপাসনার গৌরব জাতিগতভাবে ধারণ করেছেন। তিনি নদীরূপা, তিনি বাকরূপা। বাঙালির জ্ঞানপীঠ থেকে কবির রসনা সর্বত্রই তাঁর নিত্য অধিষ্ঠান। পদকর্তা নীলকণ্ঠের ভাষায়:

প্রভাতে কুমারী মধ্যাহ্নে যুবতী
সায়াহ্নে বৃদ্ধারূপা হও নিতি নিতি
নবদ্বীপধামে নীলসরস্বতী
নীলকণ্ঠের কন্ঠে আনন্দদায়িকে

তথ্য কৃতজ্ঞতা তমাল দাশগুপ্ত মহাশয়।

মা সিদ্ধেশ্বরী কালী – তমাল দাশগুপ্ত

মা সিদ্ধেশ্বরী কালী।

পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে বিভিন্ন সিদ্ধেশ্বরী কালীবাড়ি দেখা যায়। মায়ের এই বিশেষ সিদ্ধেশ্বরী রূপ সম্পর্কে আজ আমরা জানব।

★ যিনি মাতৃসাধককে সিদ্ধি প্রদান করেন, তিনিই সিদ্ধেশ্বরী। সিদ্ধেশ্বরী কালীর আলাদা ধ্যানমন্ত্র নেই তন্ত্রসারে। কিন্তু তন্ত্রসারে দেওয়া বেশ কয়েকটি মন্ত্রে মায়ের সিদ্ধিদাত্রী রূপের আবাহন ও উপাসনা করা হয়েছে, সেগুলি সিদ্ধেশ্বরী কালীর পূজায় প্রাসঙ্গিক (যেমন, “দক্ষিণকালিকা প্রোক্তা দেবতা সর্ব্বসিদ্ধিদা”। অন্যত্র, “সিদ্ধির্ভবতু মে দেবি ত্বৎপ্রসাদান্মেহশ্বরী”)।

★ আবার সিদ্ধেশ্বরতন্ত্রের কালীমন্ত্রটিও প্রাসঙ্গিক মা সিদ্ধেশ্বরীর পুজোয়, সেটি তন্ত্রসারে আছে। সেটি বিখ্যাত কালীমন্ত্র: শবারূঢ়াং মহাভীমাং..

★ এছাড়া তন্ত্রসার অনুসরণ করলে বলা যায় যে মায়ের সমস্ত ভিন্ন ভিন্ন রূপের পূজাই গুহ্যকালী মন্ত্রে হতে পারে, সিদ্ধেশ্বরী কালীও সেই মন্ত্রে পূজিত হতে পারেন।

★ পালযুগের তন্ত্রধর্মে সিদ্ধাচার্যরা অতীব গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন। চুরাশি জন সিদ্ধাচার্য বিখ্যাত, তাঁদের জীবন কাহিনী জনমানসে প্ৰচলিত ছিল। কালীক্ষেত্র কলকাতায় কালীঘাটের মা কালীর প্ৰতিষ্ঠা করেন যে চৌরঙ্গী, তিনি নাথপন্থায় যেমন পূজিত, তিনি সমানভাবে পালযুগের সিদ্ধাচার্যদের মধ্যেও গণ্য হন। বস্তুত এই যে কথিত আছে যে আদিকালে তান্ত্রিকরা কালীঘাটের মা কালীকে গুহ্যরূপে পুজো করতেন এর প্রধান কারণ তিনি সিদ্ধাচার্য কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত, কাজেই সিদ্ধেশ্বরী (যদিও আজ সেই তথ্য প্রায় বিস্মৃত) এবং আগেই বলেছি গুহ্যকালী মন্ত্রেই সিদ্ধেশ্বরী কালীর পুজো হতে পারে।

★ বর্ণরত্নাকর, শবরতন্ত্র এবং বিভিন্ন তিব্বতী গ্রন্থে পালযুগের বাংলায় প্রখ্যাত এই চুরাশি সিদ্ধের বর্ণনা আছে। এঁরা আমাদের তন্ত্রধর্মের দিকপাল ছিলেন। এঁরা সিদ্ধযোগী মাতৃকা উপাসক তো বটেই, তা ছাড়া এঁরা অনেকেই বৈজ্ঞানিক ছিলেন, তন্ত্র এবং বিজ্ঞান তো সেযুগে আলাদা ছিল না। বিশেষ করে সিদ্ধাচার্যদের অনেকে রসায়নবিদ ছিলেন, রসেশ্বর দর্শন নামে একটি তান্ত্রিক রসায়নশাস্ত্র ছিল এই সময় যা পালযুগের সিদ্ধাচার্যদের দ্বারা সৃষ্ট। তন্ত্রাশ্রয়ী পালযুগের ওপরে গবেষণা খুব কম হয়, এই সময় বাঙালি জ্ঞান বিজ্ঞানে অত্যন্ত অগ্রসর হয়েছিল। আয়ুর্তন্ত্র আরেকটি বিষয় যা সিদ্ধাচার্যদের গবেষণার বিষয় ছিল।

মা সিদ্ধেশ্বরী কালী কাজেই শুধু সিদ্ধযোগীদের উপাস্য নন, তিনি বৈজ্ঞানিকদের আরাধ্যা দেবী হিসেবেও গণ্য হবেন। বাঙালি আজকে শেকড়বিচ্ছিন্ন, তন্ত্রবিস্মৃত, তাই মা সিদ্ধেশ্বরী কালীর জয়ধ্বনি করলে আমাদের উপকার হবে।

★ সিদ্ধি কাকে বলে? সিদ্ধি অর্থ সাফল্য। নিজের সাধনপথে শীলমার্গে সফল হওয়াই সিদ্ধি। আজ থেকে দেড় হাজার বছর আগে প্রাচীন যুগের বাঙালির বর্ণপরিচয় গ্রন্থ ছিল সিদ্ধিরত্থু। সিদ্ধি হোক, বলেই বাঙালি শিশুকে অ আ ক খ শেখানো হত। আগে লিখেছি এই গ্রন্থটি সম্পর্কে, আমার পেজেই।

মা সিদ্ধেশ্বরী কালীকে কাজেই সাফল্য কালী বললে অত্যুক্তি হবে না।

তবে তন্ত্রমতে সিদ্ধির মূল অর্থ হল জীবন্মুক্ত হওয়া, চতুর্বর্গ লাভ করা, বলা বাহুল্য অন্তিমে মোক্ষলাভ করা, এবং (এটি পরবর্তী যুগের কুসংস্কার) আশ্চর্য ভোজবাজি ক্ষমতা প্রাপ্ত হওয়া, শেষেরটি লোকমুখে সিদ্ধাই বলে পরিচিত হয়।

আজ তন্ত্র অর্থে এই যে ম্যাজিক্যাল ক্ষমতা বলে ভাবা হয়, সেই ক্ষমতা আসলে সিদ্ধির একটি পরবর্তীযুগের অর্থ। কিন্তু মা স্বয়ং প্রকৃতি। অপ্রাকৃত কোনও কিছু প্রকৃতির অভিপ্রায় হতে পারে না, কথাটা মনে রাখলে তন্ত্রসাধনার পথে ভুল ভ্রান্তি কম হবে।

★ মা সিদ্ধেশ্বরী কালী নানা রূপে বাংলা জুড়ে পূজিত হন। অনেক সময় তাঁর পরিধানে বস্ত্র থাকে কারণ জ্ঞান বিজ্ঞান সাধনা সর্বোপরি সিদ্ধি তাঁর আবরণ হয়ে দেখা দেয়। কারণ যদিও জগৎকে আবৃত করতে পারে এমন বস্ত্র হয় না, সেজন্য মা কালী দিগম্বরী, কিন্তু তাও সাধনায় সিদ্ধিলাভের এমনই অদ্ভুত ক্ষমতা তা জগৎ আচ্ছাদিত করতে পারে।

শিবশঙ্কর ভারতীর বই বাংলার প্রাচীন কালীকথায় দেখছি যে তেইশটি সিদ্ধেশ্বরী কালীবাড়ির বর্ণনা আছে, তার মধ্যে অনেকগুলি বিখ্যাত, যেমন কলকাতায় ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি।

বাংলা জুড়ে আজ যে সিদ্ধেশ্বরী কালীবাড়ি দেখা যায়, তার মধ্যে অল্প কয়েকটিতে বামাকালী এবং বেশিরভাগ মন্দিরেই দক্ষিণাকালী প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু অন্য রকম রূপও আছে, যেমন শবশিব বিহীন সিদ্ধেশ্বরী কালীও কোথাও কোথাও পূজিত। কাজেই মা সিদ্ধেশ্বরী কালীর মূর্তিতত্ত্বে এবং উপাসনায় বৈচিত্র্য আছে।

জয় মা কালী। জয় জয় মা।

© তমাল দাশগুপ্ত Tamal Dasgupta

মায়ের ছবি পিন্টারেস্ট থেকে।

তমাল দাশগুপ্ত ফেসবুক পেজ, সতেরো জানুয়ারি দুহাজার তেইশ

একুশ শতকের তন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শঙ্খধ্বনি – তমাল দাশগুপ্ত

একুশ শতকের তন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনার প্রথম শঙ্খধ্বনি আমরা করে দিয়েছি।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তন্ত্রবিদ্যা সম্পর্কে সাত সপ্তাহের সার্টিফিকেট কোর্স দেওয়া হয়। অবাক হচ্ছেন? বিলেত যেতে হবে না, সেই কোর্স অনলাইনেই করা যায়। ভারতীয় মুদ্রায় ষোল হাজার টাকার কিছু বেশি কোর্স ফিজ নিচ্ছেন ওঁরা । আমি নিজেই এনরোল করেছি। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের হিন্দু স্টাডিজ বিভাগে তন্ত্রবিদ্যা সহ আরও অনেক কোর্স আছে, জানতে আগ্রহী হলে OCHS (Oxford Centre for Hindu Studies) লিখে গুগল করুন।

হ্যাঁ, ভবিষ্যতে বাঙালির নিজস্ব কিন্তু আন্তর্জাতিক মানের তন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনার প্রথম পদক্ষেপ ছিল এটাই। পঞ্চান্ন জন বিক্রমশীল এই কাজের জন্য অনুদান পাঠিয়েছেন, কয়েকজন একশ টাকার বেশি পাঠিয়েছেন, মোট সাত হাজার টাকা উঠেছে। কোর্স ফিজের বাকি টাকাটা আমি নিজেই দিয়ে দিয়েছি। একুশ শতকের বিক্রমশীলদের সবাইকে করজোড়ে নমস্কার।

পশ্চিমী দুনিয়ায় তন্ত্র এবং মাতৃকা উপাসনা নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ। অনেকগুলি বিশ্ববিদ্যালয়ে তন্ত্রবিদ্যা সম্পর্কে চর্চার বিভাগ আছে। ভারতে বা বাংলায় যা নেই, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দালাল-বিশ্বমানব-আগাছা অধ্যুষিত বলে। বাঙালির স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোথাও বাঙালির প্রাণের মা কালীকে নিয়ে চর্চা হয় না, মা তারাকে নিয়ে চর্চা হয়না, আমাদের জাতীয় জীবনের কেন্দ্রে থাকা তন্ত্রধর্ম সম্পর্কে চেতনা তৈরি করার কোনও সুযোগ থাকে না, বাঙালির ইতিহাস তো বাঙালির স্কুল কলেজেই পড়ানো হয় না। অবস্থা এত জঘন্য যে তন্ত্র বললে সাধারণ লোকে বোঝে ব্ল্যাক ম্যাজিক আর ভূতপ্রেত। আমরা এই অবস্থাটা পাল্টাব।

আন্তর্জাতিক মানের সিলেবাস তৈরি করে তন্ত্র এবং মাতৃকাধর্ম বিষয়ক সার্টিফিকেট কোর্স আমরা এই বছর পয়লা বৈশাখ থেকে শুরু করব, জার্নাল অভ বেঙ্গলি স্টাডিজ, সপ্তডিঙা পত্রিকা এবং সপ্তডিঙা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে কোর্সটি করানো হবে। শেকড়বিচ্ছিন্ন, আত্মবিস্মৃত, স্রোতের শ্যাওলা, দালাল অধ্যুষিত, আত্মঘাতী বাঙালিকে তার মাতৃকা উপাসনার কেন্দ্রে পুনঃসংস্থাপিত করবই।

তন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাস এবং নিজস্ব পুঁজি প্রয়োজন। সে একদিনের কাজ নয়, একজনের কাজ নয়। সেজন্য এক দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ করতে হবে। সে যুদ্ধের প্রথম শঙ্খধ্বনি আমরা করে দিয়েছি।

অনেকেই জানেন আমি দিল্লিতে থাকি। এই সপ্তাহান্তে আমি পশ্চিমবঙ্গে যাব, আগামী রবিবার বাইশ তারিখ কলকাতায় কালীক্ষেত্র আন্দোলনের আলোচনাসভায় অংশ নেব। সেখানে আপনিও থাকতে পারেন। যোগাযোগ করুন আমার নম্বরে: 097174 68046

আসুন, জয় মা কালী জয়ধ্বনি দিই সবাই। এত জোরে মায়ের নাম নিন , যাতে গেরুয়া-ডান বা সবুজ-সেকুলার, হালাল-লাল-বাম বা বিশ্বমানব-রামধনু-রংধনু দালালরা ভয়ে পিছু হটে যায়। জয় মা, জয় জয় মা।

তমাল দাশগুপ্ত Tamal Dasgupta

ছবিতে দেখছেন মা আগমেশ্বরী কালী।

সবেমাত্র প্রথম পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বহু পথ চলা বাকি। কোর্স ডিজাইন করতে, ওয়েবসাইট তৈরি করতে এবং স্টাডি মেটেরিয়াল প্রিন্ট করতে আরো অনেকটা খরচ হবে। মায়ের সন্তানরা এগিয়ে আসুন। যাঁরা একশ টাকা অনুদান পাঠাতে চান, তাঁদের জন্য ডিটেলস রইল। 7699750212 নম্বরে ফোনপে গুগলপে পেটিএম করুন। ব্যাংক ট্রান্সফার করতে চাইলে

Rituparna Koley
Account Number 33054363900
IFSC
SBIN0001865

ইউপিআই আইডি এবং কিউ আর কোড রইল কমেন্ট বক্সে।

তমাল দাশগুপ্ত ফেসবুক পেজ, ষোল জানুয়ারি দুহাজার তেইশ

সংযোজন

★ এখানে একাধিক বিষয় আছে। প্রথমত তন্ত্রবিদ্যা যে বিশ্ববিদ্যালয়ে চর্চার বিষয় সেটাই আমাদের বিশ্বমানবরা মানতে চায় না, তালগাছ থেকে পড়ে। তোমার পারিপার্শ্বিক অবস্থা সম্পর্কে সম্যক ধারণা নেই, ভারত ও পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস বিভাগগুলোর ইতিহাস চর্চার পাতিহাস দশা সম্পর্কে জ্ঞান নেই, এজন্য তুমি অক্সফোর্ড থেকে শিখতে হবে বলে হা হুতাশ করছ। বাঙালির বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন নেই সেই নিয়ে হা হুতাশ কর, কাজে দেবে।

দ্বিতীয়ত, ঋতু একটি রিপ্লাই কমেন্টে বলে দিয়েছে গঙ্গারিডাই শিখতে হয় গ্রীক আর ল্যাটিন লেখকদের থেকে। কিন্তু এও বাহ্য। ইউরোপ তো মধ্যযুগের শেষে নিজেদের প্রাচীন গ্রীক দার্শনিকদের পুনরুদ্ধার করেছিল আরব থেকে। ইউরোপেই হারিয়ে গেছিলেন তাঁরা। এ তো মানব জাতির ইতিহাসে বারবার হয়েছে। বাঙালির মধ্যে গত একশ বছর ধরে বিশ্বমানবদের দাপাদাপি চলছে।এমন সব প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়েছে, সে রবীন্দ্রনাথের বিশ্বভারতী হোক বা বিবেকানন্দের রাকৃমি, সবাই বাঙালির তন্ত্রাশ্রয়ী শেকড় থেকে বাঙালিকে বিচ্যুত করে গেছে। এমন অবস্থায় বিদেশ থেকে শেখার কথায় চোখ কপালে তোলার কিছু নেই। বিশেষ করে আমাদের তন্ত্র সম্পর্কে বিদেশে আগ্রহ আছে, এ তো গর্বের কথা। তন্ত্রের ইতিহাসের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ আমরা পশ্চিম থেকে শিখব অবশ্যই। আমার আদর্শ বঙ্কিম, এবং পশ্চিম থেকে শেখার কথা তিনিই বলে গেছিলেন।

অনেকে বুঝতে পারেন নি, ব্যাপারটা এমন নয়। এটা ফেসবুক। আমার পেজের পাঠক সংখ্যা এক মাসে আড়াই লাখ থেকে পাঁচ লাখ। কালকে আমি যদি কালীলোক প্রাপ্ত হই এঁদের ভেতর থেকে পাঁচটি মানুষও সম্ভবত শবানুগমন করতে আসবেন না। কিন্তু তাতে এঁদের কালীভক্তি বা মাতৃকা উপাসনা ব্যর্থ হয় না। অস্যার্থ এটা অনলাইন মিডিয়াম। এখানে মানুষের কমিটমেন্ট ওইভাবে মাপা যায় না। গ্রাউন্ডে নেমে কাজ করার আলাদা পদ্ধতি আছে, ফেসবুকের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে আমাদের স্পষ্ট ধারণা থাকা উচিত। দান বড় বিষম বস্তু, দান করা সহজ নয়। যাঁরা দিতে পারেননি, এতদ্বারা তাঁদের মাতৃভক্তি অথবা বোধশক্তি অথবা আমার বুঝিয়ে বলার ক্ষমতা ক্ষুণ্ণ হয় না।

শুধু অনলাইনের সীমাবদ্ধতাও নয়। নৌকোয় সবাই পার হয়, সবাই পারানি দেয় না, সবাই হাল ধরে না। ছেচল্লিশ সালে সবাই গোপাল পাঁঠা হয়নি। সবাইকে হতে হয় না, কেউ কেউ হয়। তাতেই মহাকালের কাজ চলে যায়।

জয় মা কালী।

মা কালী ও তন্ত্রসাধনা: সংক্ষিপ্ত সম্পর্কবিচার – তমাল দাশগুপ্ত

মা কালী ও তন্ত্রসাধনার সম্পর্ক কি?

তন্ত্র, যা তনুকে ত্রাণ করে। এছাড়া তন্ত্র শব্দের প্রাচীন অর্থ তাঁত বা বয়ন-এর সঙ্গে যুক্ত: অনেক তন্তু একত্রিত করে যেমন একটি বস্ত্র, তন্তুবয়নের মত সেভাবেই বিভিন্ন ধারণা ও তত্ত্বকে একত্রিত করে যে ডিসকোর্স, সিস্টেম, এপিস্টেমোলজি, সেটাই তন্ত্র। এই অর্থে তন্ত্রের ব্যাপক ব্যবহার আজও হয়, যেমন বিষ্ণুশর্মার পঞ্চতন্ত্র, শশাঙ্কের গৌড়তন্ত্র: এছাড়া ধনতন্ত্র সমাজতন্ত্র বাস্তুতন্ত্র।

প্রথম অর্থে তন্ত্র ব্যক্তির সমস্ত ফ্যাকাল্টির অনুশীলন। বঙ্কিমের অনুশীলন তত্ত্ব দ্রষ্টব্য। যোগাসন, প্রাণায়াম, কুণ্ডলিনী সাধনা – এ সবই আমাদের শারীরিক এবং মানসিক বৃত্তির চর্চা। পাঠ, প্রগাঢ় গবেষণা অথবা ধ্যান, তপস্যা, এগুলোও আমাদের মন, মস্তিষ্ক, মেধা এবং শরীরকে একসূত্রে গেঁথে সর্বাঙ্গীণ উন্নতির পথ দেখায়।

একসূত্রে গাঁথা খুব জরুরি কারণ কালী জগদকারণ প্রকৃতি। কালী থেকে বিশ্বচরাচর উৎপন্ন। আমরা সবাই তাঁর সন্তান, জীব জড় নির্বিশেষে সমস্ত জগৎ তাঁর উপাদান। তাই মন ও শরীরের সুষম ভারসাম্য, পরিবেশ ও মানবসভ্যতার সুষম ভারসাম্য, সমাজ এবং অর্থনীতির ভারসাম্য, তত্ত্বজ্ঞান এবং ব্যবহারিক প্রয়োগের ভারসাম্য – সবই তন্ত্রের আওতায়।

কালীর তন্ত্রে ভুক্তি এবং মুক্তি দুইই সমান গুরুত্বপূর্ণ। ভোগ এবং মোক্ষ – এ দুয়ের বিরোধ নেই। ধর্ম অর্থ কাম মোক্ষ – চতুর্বর্গ মা কালীর তন্ত্রে সুষম ভারসাম্যে অবস্থান করে।

সমাজদেহ এবং তত্ত্ব প্রজ্ঞা পরস্পর নির্ভরশীল। দেহ এবং মন অবিচ্ছেদ্য। তন্ত্র দেহভাণ্ডে ব্রহ্মাণ্ড দর্শন করে, দেহের অতীত হওয়ার শিক্ষা দেয় না, এই দেহেই মায়ের অধিষ্ঠান, আমাদের দেহই মায়ের মন্দির।

মা কালীর তন্ত্রে দক্ষিণ এবং বাম মার্গে সুষম ভারসাম্য থাকে, যেমন ইড়া পিঙ্গলার মধ্যে সুষুম্না। মা কালীর মন্ত্র আমাদের ধ্যান এবং মনোসংযোগ করতে সাহায্য করে, যা আমাদের বিপুল মানসিক শক্তিকে সেভাবে কাজে লাগায় যেন পারমাণবিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ।

মা কালী হলেন তন্ত্রের প্রকৃতি। তিনি অব্যক্ত, বোঝার সুবিধার জন্য, ধ্যানের সুবিধার জন্য এই মাতৃমূর্তিকল্প রচিত হয়েছে। জগদকারণ, তাই তাঁকে জগন্মাতা বলে ডাকি। তিনি আল্লা ঈশ্বর গডের মত মানবকল্পনা নন।

মা কালীর তন্ত্রের সঙ্গে বিজ্ঞানের বিরোধ নেই। পশ্চিমী জগতে তন্ত্র সম্পর্কে আগ্রহ ক্রমশঃ বাড়ছে। সারস্বত তত্ত্ব ও দর্শন হিসেবে এবং দৈহিক-মানসিক অনুশীলন হিসেবে তন্ত্রের কোনও বিকল্প নেই।

এবং তন্ত্র গৌড়ে প্রকাশিতা বিদ্যা। কালিকা বঙ্গদেশে চ। অর্থাৎ কালী আমাদের ভূমির অধিষ্ঠাত্রী। মা কালীর তত্ত্ব এই তন্ত্র, এবং কালীক্ষেত্র এই বঙ্গভূমি। মা কালীর নামে যে বাঙালি জাতি সংজ্ঞায়িত হয়, সেই বাঙালির সবথেকে বড় সম্পদ হল তন্ত্র।

শেকড়বিচ্ছিন্ন আত্মবিস্মৃত বাঙালির মধ্যে তন্ত্র সম্পর্কে যাবতীয় বিভ্রান্তি কাটিয়ে দিতে আমাদের উদ্যোগে তন্ত্রবিদ্যা কোর্স চালু হতে চলেছে শীঘ্রই। অনলাইনে এই তন্ত্রবিদ্যা কোর্স করা যাবে। তন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনার উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক মানের তন্ত্রবিদ্যা গবেষণা ও চর্চা কেন্দ্র গড়ে তোলার শপথ নিয়েছি আমরা। মা কালীর জয়ধ্বনি দিয়ে সঙ্গে থাকুন, আন্দোলনে যোগ দিতে চাইলে (91) 9717468046 নম্বরে যোগাযোগ করুন।

© কালীক্ষেত্র আন্দোলন

মায়ের ছবি পিন্টারেস্ট থেকে

কালীক্ষেত্র আন্দোলন ফেসবুক পেজ, শনিবার চোদ্দ জানুয়ারি দুহাজার তেইশ

মা তারা কেন আমাদের জীবনে এত গুরুত্বপূর্ণ? – তমাল দাশগুপ্ত

মা তারা কেন আমাদের জীবনে এত গুরুত্বপূর্ণ?

★ তিনি পাঁচ হাজার বছর আগেকার হরপ্পা সভ্যতায় অসম্ভব জনপ্রিয় সন্তানকোলে মাতার স্মৃতি বহন করেন। এই সন্তানকোলে মাতা নিরবচ্ছিন্নভাবে উপমহাদেশে পূজিত হচ্ছেন। চন্দ্রকেতুগড় গঙ্গাল সভ্যতায় তিনি পূজিত ছিলেন। পালযুগেও সন্তানকোলে মাতার উপাসনা হত। আজও হয় নানা রূপে। মা দুর্গার কোলে গণেশ দ্রষ্টব্য।

★ মা তারা অত্যন্ত প্রাচীন। তিনি তারিণী রূপে মহাভারতের দুর্গাস্তবে উপস্থিত। দুর্গানামের একটি অর্থ যিনি দুর্গতি থেকে উদ্ধার করেন, তারানামেও অনুরূপ ব্যঞ্জনা, তিনি তারণ করেন, তারিণী। হরপ্পা সভ্যতায় একজন নৌকোবাহিনী মাতৃকার মূর্তি পাওয়া গেছে, তিনি সম্ভবত তারা তারিণীর প্রাচীন রূপ। ভবসমুদ্রে তিনি আমাদের তরিয়ে দেন, তাই তাঁর সন্তানদের জন্য তিনি পরম আশ্রয় স্থল।

★ বাঙালি আদিকাল থেকেই অবৈদিক, ব্রাত্যধর্মীয়, তন্ত্রাশ্রয়ী, মাতৃকা উপাসক। আমাদের বৌদ্ধ তান্ত্রিক অতীতে মা তারা অতীব গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন, আমাদের গৌরবের পালযুগে চারশ বছর ধরে মা তারা ছিলেন প্রধান উপাস্য, বাংলা জুড়ে অনেকগুলি তারাপীঠ ছিল পালযুগে, আজ যদিও কেবলমাত্র বীরভূমের তারাপীঠই অবশিষ্ট আছে। এজন্যও মা তারা আমাদের কাছে অত্যন্ত প্রিয়, তাঁর নামে বাঙালির নষ্টকোষ্ঠী পুনরুদ্ধার হয়। তিনি হিন্দু তন্ত্রেও সমান গুরুত্বপূর্ণ, তিনি দশমহাবিদ্যা তত্ত্বে মা কালীর পরেই স্থান পান।

★ মা তারার উপাসনা হয় রাজবেশে। মা তারার মধ্যে সেই রাজরাজেশ্বরী রূপে আমরা জগন্মাতার উপাসনা করি। বস্তুত রাজনৈতিক ক্ষমতা যখন যার কাছেই থাকুক, আমাদের ভূখণ্ড আসলে মায়ের নামে শাসিত হয়, আমাদের জাতি মায়ের নামে সংজ্ঞায়িত হয়। একটি তথ্য পেয়েছিলাম, সত্যি কি না জানি না, ফেসবুকে বাংলা ভাষায় সবথেকে বেশি লিখিত বাক্য নাকি জয় মা তারা।

★ সম্রাট ধর্মপালের পতাকায় মা তারার ছবি অঙ্কিত থাকত। তিনি মা তারার সন্তান ছিলেন, এবং তিনিই মায়ের ক্ষেত্রপাল রূপে বাঙালির সমস্ত শক্তিপীঠে অতন্দ্র ভৈরব। সেজন্য মহাকাল ভৈরবের আরেকটি নাম ধর্মপাল।

কদাচারী কামাচারী গুহ্যাচারী পক্ষকে পরাস্ত করে মা তারার সন্তানরা মাৎস্যন্যায় যুগের অন্ত ঘটিয়েছিলেন এককালে। আজও মা তারার জয়ধ্বনি দিয়ে বাঙালির মাতৃধর্মের ঋজুপথ নির্মাণ করছি আমরা। চন্দ্রদ্বীপ যাঁর নামে, সেই আদি চন্দ্রগোমিন মা তারার নামের সঙ্গে ভাবী স্ত্রীর নাম মিলে গিয়েছিল বলে বিবাহে অস্বীকার করেন, যে কাহিনী তাৎপর্যপূর্ণ। মা তারাকে একমাত্র মাতৃভাবেই সাধনা করতে হয়। বামদেব ছিলেন মায়ের সন্তান, এবং তিনিই তারাপীঠ ভৈরব।

ভৈরবের কদর্থ করা মহাপাপ। ভৈরব হল মায়ের দ্বারপাল। মায়ের সন্তানরাই মায়ের ভৈরব, এটি তারাকুলের ঋজু শিক্ষা, এজন্য ঋজুমার্গে চলা শাক্ত সর্বদা “জয় মা তারা” জয়ধ্বনি করবেন। কদাচার কামাচার গুহ্যাচারকে বিষবৎ পরিহার করবেন। মাতৃসাধনার নামে এক শ্রেণীর বিকৃতমস্তিষ্ক ব্যক্তি মাতৃগমন শুরু করে দিয়েছিল, কারণ দেশ অরাজক, বাঙালি ছত্রভঙ্গ, তন্ত্রধর্মের প্রতিষ্ঠান নেই। আমরা মাতৃকা দূষণের বিষদাঁত চিরতরে ভেঙে দেব, মায়ের সামনে এই শপথ নিয়েছি।

আমরা মা তারার জয়ধ্বনি দিয়ে তন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার আন্দোলন শুরু করেছি। তার প্রথম ধাপ হিসেবে শীঘ্রই তন্ত্রবিদ্যা এবং মাতৃধর্ম সম্পর্কে অনলাইন কোর্স শুরু করা হবে সপ্তডিঙা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে। পশ্চিমের বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলির অনেকেই তন্ত্রচর্চা বিভাগ, তন্ত্র গবেষণা এবং তন্ত্র সম্পর্কীয় কোর্স চালান। পশ্চিমের এক প্রখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরকম একটি কোর্সে এনরোল করে আমরা দেখে নিতে চলেছি তাঁদের মেথড, তাঁদের গবেষণা পদ্ধতি, এবং তারপর আন্তর্জাতিক মানের তন্ত্রচর্চা গবেষণা কেন্দ্র আমরা বাঙালির মধ্যেই শুরু করব, যেখানে সারা বিশ্বের তন্ত্র গবেষণার শ্রেষ্ঠতম নির্যাস একত্রিত করা হবে। সবাই সঙ্গে থাকুন। আরও বিশদ জানতে আমার সঙ্গে সরাসরি ফোনে কথা বলতে পারেন, আমার নম্বর এই পেজে দেওয়া আছে।

এই কাজে একশো টাকা করে অনুদান দিতে চাইলে 7699750212 নম্বরে পেটিএম ফোনপে গুগলপে ইত্যাদি করতে পারেন। যাঁরা মোবাইল ফোনে টাকা পাঠাতে স্বচ্ছন্দ নন, তাঁদের জন্য ব্যাংক ট্রান্সফার ডিটেলস এবং কিউ আর কোড কমেন্ট বক্সে থাকল। পঞ্চাশ জন ইতিমধ্যে অনুদান দিয়েছেন, তাঁদের সকলকে অভিবাদন। বাঙালির তন্ত্রাশ্রয়ী মাতৃকা উপাসক শেকড় পুনরুদ্ধারের লড়াই জারি আছে, জারি থাকবে। আমি অধ্যাপক, আমি কেন ভিক্ষা করতে যাব, এইসব ইগো আমার আগে ছিল, ওসব ঝেড়ে ফেলেছি। মায়ের সন্তানদের কাছে ভিক্ষায় অগৌরব নেই। উপরন্তু এত বড় কাজ আমার একার অর্থে একেবারেই সম্ভব হবে না, তাই এগিয়ে আসুন। ভারতীয় নিয়মে একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপনা করতে গেলে দশ একর জমি, মানে ধরুন ১৭ বিঘা জমি, সরকারকে দেয় এক লাখের ডিম্যান্ড ড্রাফট, এবং বিল্ডিং লাইব্রেরি ইত্যাদি সহ অন্যান্য ইনফ্রাস্ট্রাকচার, ও তৎসহ শিক্ষক কর্মচারীদের মাইনে দেওয়ার মত পুঁজি থাকতে হয়। কাজেই টাকার পরিমাণ বেশ কয়েক কোটি হবে। এ একদিনের কাজ নয়, একজনের কাজ নয়। কিন্তু অনেকে মিলে একটু একটু করে অনেকদিন প্রয়াস করলে না হওয়ার কোনও কারণ নেই। বিন্দু বিন্দু দিয়েই সিন্ধু হয়।

জয় মা তারা। জয় জয় তারা। জয় জয় মা।

© তমাল দাশগুপ্ত Tamal Dasgupta

আজকে সন্ধ্যায় তারাপীঠে মা তারার রাজবেশের ছবি। ছবি ফেসবুক থেকে।

তমাল দাশগুপ্ত ফেসবুক পেজ, তেরো জানুয়ারি দুহাজার তেইশ

সংযোজন ১

যিনি ব্যাংক ট্রান্সফার করতে চান তাঁর জন্য ডিটেলস রইল

Rituparna Koley
Account Number 33054363900

IFSC
SBIN0001865

সংযোজন ২

ইউপিআই আইডি এবং কিউ আর কোড

মা চট্টেশ্বরী কালী – তমাল দাশগুপ্ত

চট্টেশ্বরী কালী।

মা কালী বাংলা জুড়ে বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানেশ্বরী অধিষ্ঠাত্রীরূপে পূজিত হন। স্থাননামবৈশিষ্ট্যে মিশে থাকে মায়ের নাম: কালীক্ষেত্র থেকে কলকাতা, ঢাকেশ্বরী থেকে ঢাকা। তেমনই বাংলাদেশের চট্টগ্রাম নামটি চট্টেশ্বরী মা কালীর নাম থেকে এসেছে মনে করা হয়।

এই চট্টগ্রাম বর্তমানে ইসলামিক রাষ্ট্র বাংলাদেশের অংশ। এখানেই সূর্য সেনের বিপ্লবী দল ইংরেজ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন, যার ফলশ্রুতিতে তিনি ফাঁসি যান বারোই জানুয়ারি ১৯৩৪ তারিখে। সূর্য সেনের অনুগামী বিপ্লবীরা মা কালীর সামনে শপথ নিতেন।

আজ আমরা চট্টেশ্বরী মা কালীর কথা জানব।

★মা চট্টেশ্বরী কালীর মূল বিগ্রহটি নিম কাঠের ছিল। খ্রিষাণগীর (নামটি বেশ অদ্ভুত) নামে একজন সাধক এখানে মূর্তি স্থাপন করেছিলেন বলে সুমন গুপ্তের “বাংলাদেশের জাগ্রত মন্দিরে মন্দিরে” জানাচ্ছে। পরে রামসুন্দর দেবশর্মণ বা রামসুন্দর অধিকারী নামে একজন সাধক নিত্য পুজো করতেন, সমসাময়িক কালের কবি এবং ম্যাজিস্ট্রেট নবীন সেন চট্টগ্রামের ভূমিপুত্র ছিলেন, তিনি চট্টেশ্বরী কালীমন্দিরে নিত্য পুজোর জন্য রামসুন্দরকে অর্থ সাহায্য করেন বলে জানা যায়। এই সময়েই রাম ঠাকুর এখানে কালী সাধনা করতেন।

★ মায়ের এই আদি বিগ্রহ পাকিস্তান আমলে ধ্বংস করা হয়। মন্দিরের তৎকালীন পুরোহিত, রামসুন্দর অধিকারীর পৌত্র কালীপদ অধিকারীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। কালীপদর ভ্রাতুষ্পুত্র বিজয় চক্রবর্তী মুসলমান সেজে রক্ষা পান, বর্তমানে তিনিই চট্টেশ্বরী মন্দিরের সেবাইত।

★ চট্টেশ্বরী কালীর বর্তমান মূর্তি পশ্চিমবঙ্গের কংগ্রেস সরকারের মন্ত্রী তুষার কান্তি ঘোষের উদ্যোগে কলকাতার একজন ভাস্কর তৈরি করেন বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে। কষ্টিপাথরের কালীমূর্তি। পদতলে শবশিব শ্বেতপাথরের।

★ মূর্তিটি মা দক্ষিণাকালীর।

★ কার্তিকী অমাবস্যায় এখানে প্রচুর ছাগবলি হয়, আগের তুলনায় সংখ্যা কমে এসেছে যদিও।

★ মায়ের নিত্য পুজো হয়। সকাল পাঁচটায় মন্দির খোলে, বন্ধ হয় রাত এগারোটায়, দুপুরে এক দেড় ঘণ্টা বন্ধ থাকে।

★ নিমকাঠের আদি মাতৃবিগ্রহের টুকরো টুকরো অংশগুলি জোড়া দিয়ে রাখা আছে সেবাইতদের কাছে, জানা যাচ্ছে। এই বিগ্রহের মতোই মাতৃধর্মের শত্রুরা টুকরো টুকরো হোক, মায়ের সন্তান হিসেবে এই সংকল্প করি। শোক পরিণত হোক আগুনে।

জয় মা কালী। জয় জয় মা।

© তমাল দাশগুপ্ত Tamal Dasgupta

মায়ের ছবি ইন্টারনেট থেকে।

তমাল দাশগুপ্ত ফেসবুক পেজ, বারো জানুয়ারি দুহাজার তেইশ

মা কালীর নাম নিন: কালীনাম জপের সুফল (যোগিনীহৃদয় তন্ত্র উবাচ) – তমাল দাশগুপ্ত

মা কালীর নাম নিন।

যিনি নিত্য মহাবিদ্যারূপে মা কালীর জপ করেন অথবা কালীকে মহাবিদ্যারূপে স্মরণ করেন, তাঁর গৃহে লক্ষ্মী এবং জিহ্বায় সরস্বতী, হৃদয়ে নারায়ণ এবং কণ্ঠে ব্রহ্মা অবস্থান করেন, এবং সম্মুখে স্বয়ং মহাদেবী অবস্থান করেন, শাক্তানন্দ তরঙ্গিণী অনুযায়ী।

যোগিনী হৃদয় তন্ত্রে বলে, এরকম এক লক্ষ কালীনাম জপে এক জন্মের পাপমুক্তি ঘটে।

দুই লক্ষ জপে সাত জন্মের এবং তিন লক্ষ জপে সহস্র জন্মের পাপ খণ্ডন হয়।

চার লক্ষ কালীনাম জপে সাধক বাগীশ্বর হয়।

পাঁচ লক্ষ জপে কুবের সমতুল্য ধনী হওয়া যায়।

ছয় লক্ষ জপে মহাবিদ্যাধর হওয়া যায় এবং সাত লক্ষ জপে খেচরীসিদ্ধি ঘটে।

আট লক্ষ জপে অণিমা প্রভৃতি অষ্ট সিদ্ধি ঘটে।

নয় লক্ষ জপে রুদ্রত্ব প্রাপ্তি ঘটে।

দশ লক্ষ বিদ্যাজপের ফল কি হয়, তা এমনকি শিবও বলতে পারেন না, যোগিনীহৃদয়তন্ত্র জানাচ্ছে।

তাই সর্বদা কালীর নাম নিন। জয় মা কালী। জয় জয় মা।

© তমাল দাশগুপ্ত Tamal Dasgupta

মায়ের ছবি টুইটার থেকে।

তমাল দাশগুপ্ত ফেসবুক পেজ, বারো জানুয়ারি দুহাজার তেইশ

কালীনাম বীজ – তমাল দাশগুপ্ত

কালীনাম বীজ।

কালীনাম স্বয়ং মহাবীজ। সেই কালীনামবীজমন্ত্রের ব্যাখ্যা মনোরম ও সুন্দর: কালী জগদকারণ, কালী পৃথ্বীময়ী, কালী প্রফুল্ল আনন্দময়ী।

ব্রহ্মানন্দ রচিত শাক্তানন্দ তরঙ্গিণী, নবমোল্লাস থেকে পাই:

সমস্ত দেবদেবীর সমস্ত মূর্তি কালিকার ক-বর্ণ, ক-কার থেকে উৎপন্ন। মা কালীর ক-তত্ত্বে সৃষ্টি/ব্রহ্মা, স্থিতি/বিষ্ণু, প্রলয়/শিব সবই নিহিত। ক থেকে জগৎ উৎপন্ন হয়েছে। সেজন্যই আমাদের তন্ত্রাশ্রয়ী মাতৃকাবর্ণমালায় প্রথম বর্ণ ক।

ক থেকে কামবর্গ, অর্থাৎ কাম্য বস্তুর প্রাপ্তি, এবং ক থেকে কৈবল্য অর্থাৎ মোক্ষবর্গ। অর্থ ও ধর্ম বর্গের উদ্দেশ্যও তাই ক-কারে সুপ্ত।

ক-কার থেকে কাম্যফলপ্রদা মা কালীর কৈবল্যপদ প্রাপ্তি ঘটে। অর্থাৎ শাক্তধর্মে ভুক্তি ও মুক্তি উভয়েই একত্রে ঘটে। তাঁর পাদদ্বয়ে কৈবল্য এবং তিনিই কাম্যফল প্রদান করেন, তাই তাঁকে কামিনী বলা হয়। বামা তাঁর কামিনী নামের সমার্থক। কামিনী কৃষ্ণবর্ণা, এবং সেই সঙ্গে বিভিন্নবর্ণা। যেহেতু তাঁর থেকে জগৎ উৎপন্ন, তাই কামিনী নানারূপা।

কালিকার বীজ এই ক-কার থেকে পৃথ্বীবীজ ল-কার উৎপন্ন হয়, যাতে বামাক্ষী (দীর্ঘ ঈ) সংযুক্ত করলে কালীবীজ পাই। বিন্দু ও অর্ধচন্দ্র (অর্থাৎ চন্দ্রবিন্দু) দ্বারা সংযুক্ত হয়ে কালীবীজ প্রফুল্ল হয়।

ল-কার হলেন রত্নপ্রসবিনী পৃথিবী।

প্রসন্নবদনা, হাস্যমুখী রত্নবিভূষিতা – এইভাবে কা-কার সংযুক্ত প্রফুল্ল বীজমন্ত্রকে চিত্তে আবাহন করতে হবে (কাঁলী)।

আর কোনও দেবতার নামটি স্বয়ং বীজ নয়। কালীনাম সবার জন্য অবারিত, এবং কালীনাম জপে বীজমন্ত্রের শক্তি আছে।

জয় মা কালী। জয় জয় মা।

© তমাল দাশগুপ্ত Tamal Dasgupta

মায়ের ছবি ফেসবুক থেকে।

তমাল দাশগুপ্ত ফেসবুক পেজ, এগারো জানুয়ারি দুহাজার তেইশ

মধ্যমগ্রামে একটি উদ্ভট মন্দির যেখানে একটি উদ্ভট মূর্তিকে মহাকাল বলে চালানো হচ্ছে – তমাল দাশগুপ্ত

কে একটা স্বপ্নে দেখেছিল এক উদ্ভট মূর্তি যেখানে মা কালীর ওপরে শিব দাঁড়িয়ে। সে মূর্তি তৈরি করে মহাকাল নাম দিয়ে মন্দির বানিয়ে ফ্যালে।মহাকালের কোনও ধ্যানমন্ত্রে আদৌ এমন উদ্ভট বর্ণনা পাওয়া যায় না। This is sacrilege and blasphemy

তমাল দাশগুপ্ত ফেসবুক পেজ, দশ জানুয়ারি দুহাজার তেইশ