মা তারা কেন আমাদের জীবনে এত গুরুত্বপূর্ণ? – তমাল দাশগুপ্ত

মা তারা কেন আমাদের জীবনে এত গুরুত্বপূর্ণ?

★ তিনি পাঁচ হাজার বছর আগেকার হরপ্পা সভ্যতায় অসম্ভব জনপ্রিয় সন্তানকোলে মাতার স্মৃতি বহন করেন। এই সন্তানকোলে মাতা নিরবচ্ছিন্নভাবে উপমহাদেশে পূজিত হচ্ছেন। চন্দ্রকেতুগড় গঙ্গাল সভ্যতায় তিনি পূজিত ছিলেন। পালযুগেও সন্তানকোলে মাতার উপাসনা হত। আজও হয় নানা রূপে। মা দুর্গার কোলে গণেশ দ্রষ্টব্য।

★ মা তারা অত্যন্ত প্রাচীন। তিনি তারিণী রূপে মহাভারতের দুর্গাস্তবে উপস্থিত। দুর্গানামের একটি অর্থ যিনি দুর্গতি থেকে উদ্ধার করেন, তারানামেও অনুরূপ ব্যঞ্জনা, তিনি তারণ করেন, তারিণী। হরপ্পা সভ্যতায় একজন নৌকোবাহিনী মাতৃকার মূর্তি পাওয়া গেছে, তিনি সম্ভবত তারা তারিণীর প্রাচীন রূপ। ভবসমুদ্রে তিনি আমাদের তরিয়ে দেন, তাই তাঁর সন্তানদের জন্য তিনি পরম আশ্রয় স্থল।

★ বাঙালি আদিকাল থেকেই অবৈদিক, ব্রাত্যধর্মীয়, তন্ত্রাশ্রয়ী, মাতৃকা উপাসক। আমাদের বৌদ্ধ তান্ত্রিক অতীতে মা তারা অতীব গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন, আমাদের গৌরবের পালযুগে চারশ বছর ধরে মা তারা ছিলেন প্রধান উপাস্য, বাংলা জুড়ে অনেকগুলি তারাপীঠ ছিল পালযুগে, আজ যদিও কেবলমাত্র বীরভূমের তারাপীঠই অবশিষ্ট আছে। এজন্যও মা তারা আমাদের কাছে অত্যন্ত প্রিয়, তাঁর নামে বাঙালির নষ্টকোষ্ঠী পুনরুদ্ধার হয়। তিনি হিন্দু তন্ত্রেও সমান গুরুত্বপূর্ণ, তিনি দশমহাবিদ্যা তত্ত্বে মা কালীর পরেই স্থান পান।

★ মা তারার উপাসনা হয় রাজবেশে। মা তারার মধ্যে সেই রাজরাজেশ্বরী রূপে আমরা জগন্মাতার উপাসনা করি। বস্তুত রাজনৈতিক ক্ষমতা যখন যার কাছেই থাকুক, আমাদের ভূখণ্ড আসলে মায়ের নামে শাসিত হয়, আমাদের জাতি মায়ের নামে সংজ্ঞায়িত হয়। একটি তথ্য পেয়েছিলাম, সত্যি কি না জানি না, ফেসবুকে বাংলা ভাষায় সবথেকে বেশি লিখিত বাক্য নাকি জয় মা তারা।

★ সম্রাট ধর্মপালের পতাকায় মা তারার ছবি অঙ্কিত থাকত। তিনি মা তারার সন্তান ছিলেন, এবং তিনিই মায়ের ক্ষেত্রপাল রূপে বাঙালির সমস্ত শক্তিপীঠে অতন্দ্র ভৈরব। সেজন্য মহাকাল ভৈরবের আরেকটি নাম ধর্মপাল।

কদাচারী কামাচারী গুহ্যাচারী পক্ষকে পরাস্ত করে মা তারার সন্তানরা মাৎস্যন্যায় যুগের অন্ত ঘটিয়েছিলেন এককালে। আজও মা তারার জয়ধ্বনি দিয়ে বাঙালির মাতৃধর্মের ঋজুপথ নির্মাণ করছি আমরা। চন্দ্রদ্বীপ যাঁর নামে, সেই আদি চন্দ্রগোমিন মা তারার নামের সঙ্গে ভাবী স্ত্রীর নাম মিলে গিয়েছিল বলে বিবাহে অস্বীকার করেন, যে কাহিনী তাৎপর্যপূর্ণ। মা তারাকে একমাত্র মাতৃভাবেই সাধনা করতে হয়। বামদেব ছিলেন মায়ের সন্তান, এবং তিনিই তারাপীঠ ভৈরব।

ভৈরবের কদর্থ করা মহাপাপ। ভৈরব হল মায়ের দ্বারপাল। মায়ের সন্তানরাই মায়ের ভৈরব, এটি তারাকুলের ঋজু শিক্ষা, এজন্য ঋজুমার্গে চলা শাক্ত সর্বদা “জয় মা তারা” জয়ধ্বনি করবেন। কদাচার কামাচার গুহ্যাচারকে বিষবৎ পরিহার করবেন। মাতৃসাধনার নামে এক শ্রেণীর বিকৃতমস্তিষ্ক ব্যক্তি মাতৃগমন শুরু করে দিয়েছিল, কারণ দেশ অরাজক, বাঙালি ছত্রভঙ্গ, তন্ত্রধর্মের প্রতিষ্ঠান নেই। আমরা মাতৃকা দূষণের বিষদাঁত চিরতরে ভেঙে দেব, মায়ের সামনে এই শপথ নিয়েছি।

আমরা মা তারার জয়ধ্বনি দিয়ে তন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার আন্দোলন শুরু করেছি। তার প্রথম ধাপ হিসেবে শীঘ্রই তন্ত্রবিদ্যা এবং মাতৃধর্ম সম্পর্কে অনলাইন কোর্স শুরু করা হবে সপ্তডিঙা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে। পশ্চিমের বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলির অনেকেই তন্ত্রচর্চা বিভাগ, তন্ত্র গবেষণা এবং তন্ত্র সম্পর্কীয় কোর্স চালান। পশ্চিমের এক প্রখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরকম একটি কোর্সে এনরোল করে আমরা দেখে নিতে চলেছি তাঁদের মেথড, তাঁদের গবেষণা পদ্ধতি, এবং তারপর আন্তর্জাতিক মানের তন্ত্রচর্চা গবেষণা কেন্দ্র আমরা বাঙালির মধ্যেই শুরু করব, যেখানে সারা বিশ্বের তন্ত্র গবেষণার শ্রেষ্ঠতম নির্যাস একত্রিত করা হবে। সবাই সঙ্গে থাকুন। আরও বিশদ জানতে আমার সঙ্গে সরাসরি ফোনে কথা বলতে পারেন, আমার নম্বর এই পেজে দেওয়া আছে।

এই কাজে একশো টাকা করে অনুদান দিতে চাইলে 7699750212 নম্বরে পেটিএম ফোনপে গুগলপে ইত্যাদি করতে পারেন। যাঁরা মোবাইল ফোনে টাকা পাঠাতে স্বচ্ছন্দ নন, তাঁদের জন্য ব্যাংক ট্রান্সফার ডিটেলস এবং কিউ আর কোড কমেন্ট বক্সে থাকল। পঞ্চাশ জন ইতিমধ্যে অনুদান দিয়েছেন, তাঁদের সকলকে অভিবাদন। বাঙালির তন্ত্রাশ্রয়ী মাতৃকা উপাসক শেকড় পুনরুদ্ধারের লড়াই জারি আছে, জারি থাকবে। আমি অধ্যাপক, আমি কেন ভিক্ষা করতে যাব, এইসব ইগো আমার আগে ছিল, ওসব ঝেড়ে ফেলেছি। মায়ের সন্তানদের কাছে ভিক্ষায় অগৌরব নেই। উপরন্তু এত বড় কাজ আমার একার অর্থে একেবারেই সম্ভব হবে না, তাই এগিয়ে আসুন। ভারতীয় নিয়মে একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপনা করতে গেলে দশ একর জমি, মানে ধরুন ১৭ বিঘা জমি, সরকারকে দেয় এক লাখের ডিম্যান্ড ড্রাফট, এবং বিল্ডিং লাইব্রেরি ইত্যাদি সহ অন্যান্য ইনফ্রাস্ট্রাকচার, ও তৎসহ শিক্ষক কর্মচারীদের মাইনে দেওয়ার মত পুঁজি থাকতে হয়। কাজেই টাকার পরিমাণ বেশ কয়েক কোটি হবে। এ একদিনের কাজ নয়, একজনের কাজ নয়। কিন্তু অনেকে মিলে একটু একটু করে অনেকদিন প্রয়াস করলে না হওয়ার কোনও কারণ নেই। বিন্দু বিন্দু দিয়েই সিন্ধু হয়।

জয় মা তারা। জয় জয় তারা। জয় জয় মা।

© তমাল দাশগুপ্ত Tamal Dasgupta

আজকে সন্ধ্যায় তারাপীঠে মা তারার রাজবেশের ছবি। ছবি ফেসবুক থেকে।

তমাল দাশগুপ্ত ফেসবুক পেজ, তেরো জানুয়ারি দুহাজার তেইশ

সংযোজন ১

যিনি ব্যাংক ট্রান্সফার করতে চান তাঁর জন্য ডিটেলস রইল

Rituparna Koley
Account Number 33054363900

IFSC
SBIN0001865

সংযোজন ২

ইউপিআই আইডি এবং কিউ আর কোড

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s