মহাকালভৈরব – তমাল দাশগুপ্ত

মহাকালভৈরব।

পালযুগের তন্ত্রাশ্রয়ী সভ্যতায় মহাকাল পূজিত হতেন মহাকালীর পুরুষ রূপ হিসেবে। এজন্যই অনেক পরে শাক্ত কবি গেয়েছেন, কালী কেবল মেয়ে নয়, মেঘের বরণ করিয়ে ধারণ কখনও কখনও পুরুষ হয়।

পূজিত মহাকাল মূর্তির অন্যতম একটি নাম ছিল ধর্মপাল, এবং পালসম্রাট ধর্মপালের দৈহিক আদলে এই মহাকাল মূর্তি নির্মিত হত। মহাকালকে জ্ঞাননাথ বলেও ডাকা হত, পালযুগের বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞাননাথ এবং মা তারা পূজিত হতেন।

আজও বিদেশের অনেক মিউজিয়ামে পালযুগের বাংলায় নির্মিত মহাকাল মূর্তি দেখা যায়। নবম-দশম শতকের মহাকালসংহিতা নামক গ্রন্থে আমরা তাঁর ভূমিকা সম্পর্কে অবগত হই এবং সেই গ্রন্থে কালী/মহাকালীর সর্বোচ্চ উপাস্য রূপের কথাও বলা হয়েছে।

বস্তুত কালীর পুজোর আগে অষ্টভৈরবের পুজো এবং তৎসহ মহাকালভৈরবের পুজোর প্রথা আছে। সম্পূর্ণ পূজাবিধি আছে আগমবাগীশের তন্ত্রসারে যেখানে মহাকালভৈরব সম্পর্কে আমরা জানতে পারি। ইনি দেবীর দক্ষিণভাগে বিদ্যমান। ইনি ধূম্রবর্ণ। দণ্ড এবং চিতাকাঠ ধারণ করেন। ইনি করালদ্রংষ্টা। কটিদেশে অর্থাৎ কোমরে ব্যাঘ্রচর্ম। এঁর উদর অতি স্থূল। এঁর গায়ে রক্তবস্ত্র। এঁর ত্রিনয়ন। কেশজটা ঊর্ধ্বে এবং চতুর্দিকে বিকীর্ণ। ইনি মুণ্ডমালা ধারণ করেন। কপালে অর্ধচন্দ্র। এঁর উগ্রমূর্তি এবং দেহ অগ্নিভ।

মহাকালং যজেদ্দেব্যা দক্ষিণে ধূম্রবর্ণকং।
বিভ্রতং দণ্ডখট্টাঙ্গৌ দ্রংষ্টাভীমমুখং শিশুং।
ব্যাঘ্রচর্ম্মাবৃতকটিং তুন্দিলং রক্তবাসসং।
ত্রিনেত্রমূর্দ্ধকেশঞ্চ মুণ্ডমালাবিভূষিতং।
জটাভারলসচ্চন্দ্রখণ্ডমুগ্রং জ্বলন্নিভং।

কুমারীকল্পে আমরা মহাকালের এই মন্ত্রটি পাই:

হুঁ ক্ষ্রোঁ যাং লাং বাং ক্রোং মহাকালভৈরব সর্ব্ববিঘ্নান্ নাশয় হ্রীঁ শ্রীঁ ফট্ স্বাহা।

প্রকৃতপক্ষেই মহাকাল ভক্তের সমস্ত বিঘ্ন নাশ করেন। তিনি জগন্মাতার শাক্ত ধর্মের অতন্দ্র ভৈরব-ক্ষেত্রপাল-প্রহরী। তাই আমরা মহাকালের জয়ধ্বনি করি।

জয় মহাকাল। জয় জয় মা।

© তমাল দাশগুপ্ত Tamal Dasgupta

মহাকালের ছবিটি পিন্টারেস্ট থেকে।

মহাকাল সম্পর্কে আগেও লিখেছি। লিংক কমেন্টে রইল।

সংযোজন

মহাকাল সম্পর্কে আমার লেখালেখির লিঙ্কের সঙ্কলন https://matshonyay.home.blog/2022/07/25/%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A6%97%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%8F%E0%A6%95%E0%A6%9F%E0%A6%BF-%E0%A6%AE%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B2-%E0%A6%AE%E0%A7%82%E0%A6%B0/

তমাল দাশগুপ্ত ফেসবুক পেজ, চার জানুয়ারি দুহাজার তেইশ

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s