প্রশ্নোত্তরে কালীমূর্তিতত্ত্বসার – তমাল দাশগুপ্ত

প্রশ্নোত্তরে কালীমূর্তিতত্ত্বসার।

★ মা কালী কালো কেন? কারণ তিনি জগদকারণ। সৃষ্টির উৎসে অন্ধকার। সব রঙ এসে কালো রঙে মেশে, তাই কালী। অমাবস্যা তিথিতে মায়ের পুজো হয়, কারণ অন্ধকারের মধ্য থেকেই তিনি জগৎ সৃষ্টি করেন। কালী জগৎ আলো করেন, তাই দীপান্বিতা অমাবস্যায় তাঁর পুজো হয়, কারণ নিশা থেকেই ঊষা আসেন, যেমন কালী থেকে দুর্গা।

★ মায়ের গলায় মুণ্ডমালা কেন? পঞ্চাশ মুণ্ড পঞ্চাশ বর্ণের প্রতীক, মুণ্ডমালা জ্ঞানদায়িনী কালীর প্রতীক। ছিন্ন মুণ্ড নির্বাণ বা কৈবল্যের প্রতীক।

এছাড়া মা বলিপ্রিয়া, মহাভারতের শ্লোক দ্রষ্টব্য, তাঁর হাতে ছিন্ন মুণ্ড সেই বলির প্রতীক। মা রুধিরপ্রিয়া সেজন্য মুণ্ড থেকে নির্গত রক্ত তাঁর প্রিয়। প্রাচীন প্রস্তর যুগ থেকেই মাতৃধর্মের প্রতীক হল রক্ত-লাল।

★ খড়্গ কেন? অজ্ঞতা অন্ধকারকে ছিন্ন করে তাঁর জ্ঞানের আলো, এজন্য খড়্গ। খড়্গ দিয়ে আমরা বলি দিই, সেজন্য খড়্গ মায়ের হাতে। সমস্ত জাগতিক মোহ ও বিভ্রান্তি থেকে মুক্তি দেয় মায়ের খড়্গ।

★ পদতলে শিব কেন? পদতলে আসলে শব, মায়ের পাদস্পর্শের মহিমায় শব পরিণত হয়েছে শিবে। কাজেই প্রশ্ন হল পদতলে শব কেন? শব জড়ত্বের প্রতীক, মা সর্বপ্রকার জড়তা দলন করেন।

★ জিহ্বা প্রসারিত কেন? মা কালী হলেন কালের অধিষ্ঠাত্রী। কালী তাই গ্রাস করেন। তাঁর বলি গ্রহণও এই কালগ্রাসের প্রতীক। তন্ত্রাশ্রয়ী হরপ্পা সভ্যতা থেকে মা বলি গ্রহণ করে আসছেন। বৈদিক আর্যের কাছেও তিনি অগ্নির জিহ্বা, মুণ্ডক উপনিষদ দ্রষ্টব্য।

★ চার হাত কেন? চতুর্বর্গ দেন, তাই। তবে তিনি দশদিকে পরিব্যাপ্ত তাই তাঁর দশভুজা মূর্তিও হতে পারে। আজকে যে ছবিটি দিয়েছি সেটি দশভুজা কালীর।

★ ডান বা বাম পা আগে থাকার তাৎপর্য, অথবা শবশিবের বুকে ডান পা বা বাম পা থাকার তাৎপর্য কি? দক্ষিণ দিকের অধিপতি যম তাঁর ভয়ে পালিয়ে যায়, ডান পা এগিয়ে থাকলে বা শবের বুকে থাকলে তিনি দক্ষিণাকালী। আবার বাম পা অনুরূপ অবস্থানে থাকলে তিনি তাঁর সন্তানের বিধি বাম হতে দেন না, বামগতি বা বিভ্রান্তি আটকে দেন। তাঁর পা পরম আশ্রয়, তাঁর পদভারে মেদিনী প্রকম্পিত হয়, তাঁর পায়ের তলায় সন্তানের সমস্ত বিপত্তি দলিত হয়।

© তমাল দাশগুপ্ত Tamal Dasgupta

জয় মা কালী। জয় জয় মা।

এই দশভুজা কালীমূর্তি আমার গৃহে অধিষ্ঠান করেন। এঁকে কোঙ্কণ উপকূল থেকে এনেছিলাম। মায়ের এই ছবি আগেও দিয়েছি।

তমাল দাশগুপ্ত ফেসবুক পেজ, তেইশ নভেম্বর দুহাজার বাইশ

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s