প্রসঙ্গ বর্গি হানাদারি নিয়ে আমার প্ৰবন্ধ: সব বিষয়ে কথা বলার সুযোগ নেই – তমাল দাশগুপ্ত

অনেক বৃহৎ কাজে হাত দিয়েছি, তাই তুলনায় কম জরুরি ক্ষেত্রে নীরব থাকা আমার বাধ্যতা। যদি নীরব থাকি জানবেন হয় ভালো কিছু বলার সুযোগ নেই, নয়ত মন্দ কিছু বলার স্পৃহা নেই, অথবা ভালোমন্দ কিছুই বলার কোনও কৌশলগত প্রয়োজন নেই।

প্রসঙ্গ হল, জনৈক বিষ্ণুপুরপ্রেমী আমার বর্গি পোস্টে এসে আকুল অভিযোগ জানিয়েছেন, কেন বিষ্ণুপুর রাজ্যের বীরত্বের কাহিনী আমার বর্গি ইতিহাস প্রসঙ্গে উল্লেখ করিনি। হ্যাঁ, বিষ্ণুপুরের রাজা তখন হরিনাম করছিলেন, যুদ্ধের প্রয়োজন নেই বলে। অরক্ষিত রাজ্য। তখন নাকি মদনমোহন একটিবার দলমাদল কামান দেগে হানাদার বর্গিদের হটিয়ে দিয়েছিলেন। এই কিংবদন্তি। বর্গি বাকি বাংলা জুড়ে ধর্ষণ করল, হত্যা করল, লুট করল। বিষ্ণুপুরের পাশেই শিখরভূম, সেখানে রাজার পত্নীরা বলা হয় আশঙ্কায় আত্মাহুতি দেন। অথচ সব থেমে গেছিল বিষ্ণুপুরে। মদনমোহনের কামান…

কিছু বলিনি। আমার লেখায় এই প্রসঙ্গ নিয়ে একটি কথাও বলিনি। কেন বলিনি এটাই অভিযোগ।

অনেকে এসে বলেন, মুসলমান সমস্যা নিয়ে এত লিখি অথচ কেন সর্বকালের শ্রেষ্ঠতম বাঙালি সুভাষচন্দ্র নিয়ে কিছু লিখি না, যিনি থাকলে দেশভাগই নাকি হত না, সব সাম্প্রদায়িক সমস্যা যিনি শ্যামার টাকে ঢিল ছুঁড়েই সমাধান করে দিতেন, একবার যেমন দিয়েছিলেন।

আমি কিছু বলিনি। আমি এসব ক্ষেত্রে সাধারণত কিছু বলি না। বিষ্ণুপুর নমস্য, সুভাষ নমস্য। দুয়েকটি যদি বাড়াবাড়ি ভক্তরা করেই থাকে, সস্নেহে এড়িয়ে যাওয়া যেতেই পারে।

তাই কোনও বিষয়ে আমি কিছু না বললে ঘ্যানঘ্যান করবেন না। জানবেন, বৃহৎ কাজের জন্য দুয়েকটি ক্ষুদ্র কাজকে অবহেলা করতে হয় যা তেমন জরুরি নয়। আর তাছাড়া যেক্ষেত্রে আমি চুপ আছি, জানবেন আমি ওইভাবে অবহেলা করলেই তাতে বাঙালিরও মঙ্গল, আর ভক্তেরও চেঙ্গিস খান। কারণ আমাকে দিয়ে জোর করে ঘ্যানঘ্যান করে হয়ত শেষমেশ বলালেন, কিন্তু তাতে বিষম লেগে ভক্তের ইয়েটাই চটে গেল, সেটা কি ভালো হবে?

তবে এটুকু না বলে পারি না। এই মুমূর্ষু বিধ্বস্ত আত্মবিস্মৃত বাঙালি জাতির উত্থানে আজ আর নতুন করে মূর্খের প্রয়োজন নেই। এ জাতির মধ্যে এমনিতেই গামবাট বেড়ে গেছে, পূর্বমানুষরা দীর্ঘদিন ধরে গামবাট চাষ করছিলেন বাংলার মাটিতে নইলে আজ এই দশা হয় না। যারা মিথ নিয়ে সন্তুষ্ট, তারা সন্তুষ্ট থাকুন। আপনার সন্তুষ্টির গজদন্ত মিনার ভেঙে দেয়ার থেকে সহস্রগুণ বেশি এমার্জেন্সি পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হচ্ছে আমাকে।

হ্যাঁ, রবিঠাকুর নিয়ে কিছু মিথ ভেঙেছি, বিশেষ করে ওঁর বিশ্বমানবতা, ওঁর জাতীয়তাবাদ বিরোধী rant, ওঁর রেখেছ বাঙালি করে মানুষ কর নি। এগুলো প্রয়োজন ছিল, তাই বাধ্য হয়ে করতে হয়েছে, কিন্তু স্থির জানবেন, তা নয়ত আমি বারবার রবির কিরণের সামনে দণ্ডবৎ হই। তা নয়ত, যাঁরা প্রণম্য, সবারে আমি নমি…

এছাড়া, অপ্রয়োজনে কোনও একটি শিশুরও কোনও একটিও খেলনা আমি কেড়ে নেব না। খেলুন, আপনাদের এখন তো খেলাধূলারই বয়স।

সবাই ভালো থাকুন, আমার সম্মুখে পথরোধ করে যিনি দাঁড়াবেন তিনি ছাড়া সবাই ভালো থাকুন, মায়ের কাছে এই প্রার্থনা। শেষে আবার বলি, খুব অল্প সময়ে খুব বড় একটা কাজ করার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে, ফলে আমাকে জুতো সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠ সর্বত্র পাবেন না, কিন্তু তার জন্য অভিযোগ করে নিজের ও আমার সময় নষ্ট করবেন না।

জয় জয় মা।

তমাল দাশগুপ্ত Tamal Dasgupta

মা কালীর টেরাকোটা ভাস্কর্য চিত্র গডেস বিদ্যা সাইট থেকে।

তমাল দাশগুপ্ত ফেসবুক পেজ, এগারো সেপ্টেম্বর দুহাজার বাইশ

পেজ থেকে শেয়ার করা হয়েছিল এই লেখাটি

পড়ুন পড়ুন। পড়ে ফেলুন। আগে পড়ে থাকলে আবার পড়ুন। আশে পাশে যারা বাংলা হরফ চেনে তাদের পড়িয়ে দিন। মোল্লার দালালি করা সেকুলার আর মেড়োর দালালি করা হিন্দুত্ববাদী, দুদলের ঘাড় ধরে পড়ান। গেরুয়া হিন্দুত্ববাদী আর সবুজ সেকুলারবাজির মুখোশ খুলে দিন, আমার ফেসবুক পৃষ্ঠার প্রিন্ট আউট দুদলের চোখে ঘষে দিন, চোখ খুলে দিন।

চোখ খোলা রাখুন। এই ফেসবুক পৃষ্ঠা আত্মবিস্মৃত তালকানা বাঙালির আই ড্রপ। চোখে ঢালুন। তথ্য দেওয়ার পেজ অনেক আছে বাজারে, কিন্তু সেসব নিছকই তথ্য: বীজহীন, বন্ধ্যা, নিষ্ফলা। আমার এই পেজের তথ্যের ওষধি গুণ আছে। আমি জাতে বৈদ্য, আমি একুশ শতকে এই মুমূর্ষু বাঙালি জাতির চিকিৎসা করতে এসেছি। বিনয় দেখাব কেন? খচ্চর আর গাধার সামনে মায়ের বাহন সিংহ বিনয় দেখায় না।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s